Breaking News
বৈসুর উপলক্ষে আদিবাসী শিশুদের মাঝে সংগঠনের নতুন পোশাক উপহার স্বরূপ বিতরণ

পাহাড়ের অবহেলিত শিশুদের মুখে হাসি ফোঁটাতে ‘সেইভ এ স্মাইল ফাউন্ডেশন’

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি।।

একঝাঁক তরুণ-তরুণী। সতেজ প্রাণ সবাই শিক্ষার্থী। কেউ কলেজে, কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছে। সর্বসাকুল্যে ওরা ১২০জন। চোখেমুখে উচ্ছ্বাস। কখনো নিজেদের মধ্যে শলাপরামর্শ, কখনো ছড়িয়ে পড়ছেন মানুষের মধ্যে।

সবার একই উদ্দেশ্য। শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো, মানুষের দ্বার প্রান্তে গিয়ে সেবা করা। বলছিলাম সেইভ এ স্মাইল ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠনের কথা। বিগত ২০১৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর থেকে যাত্রা শুরু এ সংগঠনের। শুরুর দিকে ফেসবুকে সংঘবদ্ধ হলেও পরবর্তীকালে কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়েছে পুরো জেলাব্যাপী। অলাভজনক ও অরাজনৈতিক এ সংগঠনের নানামুখী কার্যক্রম চলে সারা বছরই।

শহর ছাড়িয়ে পাহাড়ের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবহেলিত গ্রামেও কাজের ঢের প্রাপ্তি। সব প্রতিবন্ধকতা মাড়িয়ে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছে সংগঠনটি। শহরজুড়ে রয়েছে সুনাম। করোনা দুর্যোগের সময়েও সেইভ এ স্মাইল ফাউন্ডেশনের তরুণেরা মানুষের সেবা করছেন। করোনা সচেতনতায় লিফলেট, মাস্ক বিতরণ, সাবান, দেড় শতাধিক পরিবারকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে সংগঠনটি।

‘সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো আমাদের লক্ষ্য’ স্লোগান নিয়ে তিন বছর ধরে কাজ করে চলেছে এ সংগঠনটি। আদিবাসী সমাজের হতদরিদ্র পথশিশু এবং সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো সেইভ এ স্মাইল ফাউন্ডেশনের মূল উদ্দেশ্য। তবে এসবের বাইরে নিয়মিত রক্তদান, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি, শীতবস্ত্র বিতরণ, অসুস্থ ব্যক্তিকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান, সাহিত্য প্রতিযোগিতাসহ বিভিন্ন সেবামুখী কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন তরুণেরা।

গরিব, দুঃখী, অসহায় শিশুদের জন্য এসব জামা কেনা হয় সেইভ এ স্মাইল ফাউন্ডেশনের নিয়মিত সদস্যদের নিজেদের টাকায়। সদস্যরা প্রায় শত ভাগই তরুণ। পাহাড়ের আদিবাসীদের উৎসব ছাড়া দুস্থ শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে, অসুস্থকে চিকিৎসা সহায়তা দিতে অর্থ দেন স্বেচ্ছাসেবকেরা। তাঁরা কেউ টিউশনির টাকা, নাশতার টাকা, মা-বাবার দেওয়া টাকা বাঁচিয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকেন।

তরুণপ্রাণ ছাড়াও অনেকেই সংগঠনটির পাশে সময়ে অসময়ে থেকেছেন। সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণেরা যাতে দক্ষ হতে পারেন, সেসব দেখভাল করার দায়িত্বও তাদের। সেইভ এ স্মাইল ফাউন্ডেশনের সভাপতি হিসেবে আছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, খাগড়াছড়ি জেলার সন্তান হিমেল চাকমা, সহ-সভাপতি রাজশালী বিশ্ববিদ্যালয়ের দিবস চাকমা এবং প্রধান নির্বাহী ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাওলানা ভাষানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, খাগড়াছড়ি জেলার সন্তান লাম্প্রা ত্রিপুরা। সহ-সাধারণ সম্পাদক চয়েস চাকমা, অর্থ সম্পাদক বিপুল চাকমা, সহ-অর্থ সম্পাদক কমলা ত্রিপুরা, সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রেয়া চাকমা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হেনা ত্রিপুরা, প্রচার সম্পাদক প্রশান্ত দেওয়ান, সহ-প্রচার সম্পাদক সুষমা চাকমা, দপ্তর সম্পাদক ডনিয়েল ত্রিপুরা, প্রকাশনা সম্পাদক ত্রিবেণী চাকমা, নির্বাহী সদস্য অদিতি চাকমা ও জেফ্রী ত্রিপুরা।

লাম্প্রা ত্রিপুরা বলেন, ‘পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামে গত ৩ বছরে কাজের অভিজ্ঞতায় বেশি অর্জন আমাদের। আর আমরা যারা কাজ করি, এর অধিকাংশই তরুণ। অদূর ভবিষ্যতে সংগঠনকে বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছি। আর সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়েই সংগঠনের পথচলা। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করছি। আগামীতে সমতলের আদিবাসীদের নিয়েও কাজ করবে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া খাগড়াছড়ি জেলার বাইরেও কাজের প্রসার ঘটেছে স্বেচ্ছাসেবী এ সংগঠনের। নিঃস্বার্থে মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাওয়াই সংঠনের একমাত্র লক্ষ্য। ইতিমধ্যে তিন পার্বত্য জেলার তরুণ-তরুণীরা এক হয়ে কাজ করছেন সেইভ এ স্মাইল ফাউন্ডেশন নামের এ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে।

About খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

Check Also

মহামারীতে অসহায় মানুষের জন্য একযোগে কাজ করতে হবে: কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা-এম পি

দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, জেলা প্রতিনিধি, খাগড়াছড়ি॥ ভারত প্রত্যাগত শরণার্থী টাস্কফোর্স চেয়ারম্যান ও খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য …