Breaking News
প্রবারণা পূর্ণিমার উপলক্ষে ফানুস উড়ানো হয়।

বান্দরবানে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের প্রবারণা পূর্ণিমা’র উৎসব

বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের শুভ প্রবারণা পূর্ণিমা। বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা পুরো তিন মাস বর্ষাব্রত পালনের পর অপেক্ষায় থাকে এই দিনটির জন্য। এই দিনে বিহারগুলোতে থাকে বর্ণিল আয়োজন।

বুধবার (২০ অক্টোবর) প্রবারণা পূণির্মা উপলক্ষে সকাল থেকেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে নানা ধর্মীয় উৎসব আয়োজন মধ্যে দিয়ে বান্দরবানে পূজানীয় ব্যক্তিরা বৌদ্ধ বিহারের প্রার্থনার জন্য জড়ো হতে থাকে। এসময় শত শত বৌদ্ধ নর-নারী সমবেত হয়ে ভগবানে উদ্দেশ্যে ফুল পূজা, কাঁচা ফল পূজা, পানীয় পূজা, মোমবাতি ও আগরবাতি পূজাসহ নিজ হাতের তৈরি পিঠা ও ছোয়েং (আহার) দান করে এবং সকলের মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন।

তাছাড়া সন্ধ্যায় নর-নারী, দায়-দায়িকা, উপ-উপাসীকাবৃন্দ পুনরায় বিহারের সমবেত হয়ে পূণ্য লাভের আশা বিহারে নগদ অর্থ দান, মোমবাতি, হাজার প্রদীপ প্রজ্বলন, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল ও অষ্টশীল গ্রহণ করবেন। ধর্মদেশনা শেষে ভগবান বুদ্ধের (চুলা মনি জাদি) উদ্দেশ্যে উৎসর্গ করা হবে আকাশে নানা রংবেরং এর ফানুস বাতি।

সংস্কৃত ‘পবারণা’ শব্দ থেকে প্রবারণা শব্দের আবির্ভাব। যার অর্থ হলো ‘আশার তৃপ্তি’ ‘অভিলাষ পূরণ’ শিক্ষা সমাপ্তি অথবা ধ্যান শিক্ষা সমাপ্ত ইত্যাদি বুঝায়। বাংলায় প্রবারণা শব্দের অর্থ হলো বরণ করা, অভীষ্ট দান করা, কাম্যদান করা; অপরদিকে নিবারন মানা,নিষেধ করা। মোট কথা প্রবারণা বরণ অর্থে যা কিছু কুশল, সুন্দর, সৎ, ভাল, যথার্থ, বিজ্ঞজন সর্বোপরি বুদ্ধমোদিত সে রকম কর্ম বা কাজকে বরণ করা এবং এগুলো নিজের স্ব স্ব জীবনে আচরন করা।

প্রবারণা পূর্নিমা মূলতঃ ভিক্ষুদের অনুষ্ঠান। তা সত্ত্বেও বৌদ্ধদের শ্রেষ্ঠতম সামাজিক, ধর্মীয়, ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিনত হয়েছে। প্রবারণা শব্দের অর্থ আত্ননিবেদন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস ব্যাপী সময়ে বর্ষাব্রত পালন করেন। তখন তারা বিহারে অবস্থান ও জ্ঞানচর্চা করেন। সেসময়ে তাদের ভুলভ্রান্তি হতে পারে, তাই বর্ষাব্রতপালন শেষে তারা আশ্বিনী পূর্ণিমায় প্রবারণা করেন। সেদিনে তারা যদি গোচরে এবং অগোচরে কোন ভূল করে থাকেন তার জন্য জ্যেষ্ঠ ভিক্ষুর কাছে তা জানান এবং তা সংশোধনের আহবান জানান। তেমনিভাবে জ্যেষ্ঠ ভিক্ষুরাও নবীনদের কাছে তাদের ভুলের কথা জানাবেন। এজন্য এটি হলো ভিক্ষুদের আত্মসমর্পন ও আত্মনিবেদনের অনুষ্ঠান। একে কেন্দ্র করে বৌদ্ধরা উৎসব করে।

আগামী মাসব্যাপী প্রতিটি বৌদ্ধ গ্রামে পালক্রমে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় শুরু হবে দানশ্রেষ্ঠ ”কঠিন চীবর দান”

About admin

Check Also

শেখ কামাল ক্রীড়া পুরস্কার পেলেন ক্যশৈহ্লা মার্মা

ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য শেখ কামাল ক্রীড়া পুরস্কার পেলেন ক্যশৈহ্লা মার্মা। তিনি বাংলাদেশ কারাতে …